চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। সমাবেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলোর ইজারা প্রথা বাতিল করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালানোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মোমেন বলেন, ‘বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজছে। এ অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এনসিটি ও সিসিটি বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ অবস্থায় ইজারা প্রথা বাতিল করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এসব টার্মিনাল চালানোর দাবি জানাচ্ছি আমরা।’
সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রফতানি বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ফলে এই বন্দরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অথচ এরপরও বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে, বিশেষ করে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ ইজারা দেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। তাই অবিলম্বে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা প্রদানের প্রক্রিয়া বাতিলের সুস্পষ্ট সরকারি ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সমাবেশ শেষে মানববন্ধন করেন কমিটির নেতারা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অশোক সাহা এবং স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, শ্রমিকনেতা ইব্রাহীম ফরাজী প্রমুখ।