আগে ২০ লাখ টাকা চেয়েছিল, পুলিশকে জানানোর পর এখন ৫০ লাখ চাচ্ছে তারা

চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ভবনটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ভয়ে ভবনটির কাজ করতে আসছেন না নির্মাণশ্রমিকরা।

নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ভবনের মালিক বাদী হয়ে রবিবার রাতে হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। নির্মাণকাজ বন্ধ। পাশের একটি নার্সারিতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। শ্রমিকরা জানান, রবিবার বিস্ফোরণের পরপরই নির্মাণশ্রমিকরা আতঙ্কে চলে যান। আজ সকালে কেউ আর কাজে যোগ দেননি। এলাকার বাসিন্দারাও আতঙ্কে আছেন।

ভবনের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হামলা-ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের পর রাতে সন্ত্রাসীরা ফোন করে কাজ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দিয়েছে। তারা আগে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। না দেওয়ায় ভবনে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। পরে পুলিশকে জানানো এবং মামলা করায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চাচ্ছে। না দিলে আবারও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। শ্রমিকরা ঘটনার পর থেকে আর কাজে আসছেন না। আজ সকালেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা কেউ কাজ করতে আসেননি। দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক ভবনে নির্মাণকাজ করতেন। ঘটনায় জড়িতরা কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় আমি নিজেও আতঙ্কে আছি।’

রবিবার সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বাড়ির সামনে টেম্পোতে এসে নামে। তখন নির্মাণাধীন ভবনটিতে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করতে থাকে। এরপর ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা। কুরবান আলী বলেন, ‘আমাকেও মারধর করে তারা। ব্যথায় রাতে ঘুমাতে পারিনি। ভয়ে আছি আবার কখন এসে হামলা করে। এজন্য কাজে যাইনি।’

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। হাটহাজারী থানার বড় দীঘিরপাড় এলাকায় তার দোকান। কয়েক মাস আগে তিনি ১০তলা বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

নির্মাণাধীন ভবনটিতে ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে রাজি নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, বড় দীঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। অতীতে এলাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসীর উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বড় দীঘিরপাড়ের অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কে মানববন্ধন করা হবে।

এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। লোকজনের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

গত ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন এই চাঁদা দাবি করেছেন বলে মামলায় বলা হয়। একই স্টাইলে রবিবারের ঘটনা ঘটলো।