চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পু ইসমাইলকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আবুল মনসুর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলাটি ২০২৫ সালের ১৩ জুন নগরীর কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়েছিল।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘টেম্পু ইসমাইল একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। অতীতে ১৩ বার গ্রেফতার হলেও প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। তাই নতুন মামলায় তাকে আইনানুগভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এবং আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ অংশ নেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩৮ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন ওই মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। তিনি চান্দগাঁও থানা এলাকায় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তদন্তে আরও জানা গেছে, এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অপরাধ সংঘটনে অংশ নেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার অন্যান্য আসামির পরিচয়, অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে ইসমাইল হোসেনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টেম্পু ইসমাইলের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলার তথ্য রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।’
নগরের চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সশস্ত্র মহড়া, আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে টেম্পু ইসমাইলের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে চান্দগাঁও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তিনি গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন।