কুমিল্লায় আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতের পর গ্রেফতার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এই নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আসামি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে ও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান হাফিজুর রহমান। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত।
তবে আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময় অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেননি বলে জানান কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন ঝোপ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের একপর্যায়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রথমবার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছিল পিবিআই।