প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে বাবুনগর মাদ্রাসা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির নাজিরহাটের বাবুনগর মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে র‍্যাব, পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ (এসএসএফ) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদ্রাসা এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়িতে পৌঁছানোর পর নাজিরহাটের বাবুনগর এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কাউকে মাদ্রাসা এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সফর উপলক্ষে নির্ধারিত কার্ডধারী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদেরও একাধিক ধাপে নিরাপত্তা তল্লাশির পর মাদ্রাসায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আজ সকাল ১০টা থেকে ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো মাদ্রাসা এরিয়া তল্লাশি করা হয়েছে। 

মাদ্রাসার প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তু সম্পর্কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ এবং আশপাশের এলাকাতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মাদ্রাসা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপরতা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের একটি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এতে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৭০ জন আলেম অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরের সময়সূচি ও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।