একদিনের সফরে রবিবার চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে রং করার কাজও করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সফরের কর্মসূচিকে নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি থেকে বাঁশখালী উপজেলায় যাবেন।
সেখান থেকে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় নগরীতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে এই সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছে প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার তারেক রহমান চট্টগ্রাম সফরে আসছেন। তার সফরকে ঘিরে উজ্জীবিত বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের সফরে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সাংগঠনিক সভার আয়োজন করেছেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন এবং তাদের কথা শুনবেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সভা থেকে আমাদের যে দিক-নির্দেশনা দেবেন সেভাবে কাজ করবো।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় মহেশখালীতে পৌঁছে সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
সেখান থেকে দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন স্থানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ত্রাণ বিতরণ ও ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেবেন।
এরপর দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ি যাবেন। সেখানে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত করবেন।
জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেবেন।
সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সাংগঠনিক সভা শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে আসছেন। তার সফর নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পুরো দল কাজ করছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে।”

ইউএনওদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর







