লোডশেডিংয়ের সুযোগে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দেড় মাসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত এলাকায় প্রায় দুই ডজন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। প্রতিটি চুরির ঘটনায় থানায় মামলা হলেও কোনও গ্রেফতার নেই। পুলিশ বলছে, ট্রান্সফরমার চুরিতে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনই জড়িত।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই থেকে গত রবিবার পর্যন্ত স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত এলাকায় মোট ২৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ১৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। আর আগস্টে রবিবার পর্যন্ত ১২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার নাউরী, ফৈলাকান্দি, দুর্গাপুর, দাসের বাজার, দেওয়ানজিকান্দি, জীবগাঁওসহ আরও কয়েকটি এলাকা থেকে রাতে এসব ট্রান্সফরমার চুরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার তার চুরি করে নিয়ে খোলস ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
এসব ঘটনায় থানায় চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে তিন-চারটি ট্রান্সফরমার ও যন্ত্রাংশ।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। অর্থাৎ দেড় মাসে ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ২৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোক ছাড়া বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি সম্ভব নয়। ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকেরাই জড়িত। সন্দেহভাজন চোরদের ধরতে অনুসন্ধান চলছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘রাতের বেলায় লোডশেডিং চলাকালে ট্রান্সফরমার বেশি চুরি হয়। আমার উপজেলায় গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ মেগাওয়াট, বরাদ্দ আসে মাত্র ৯ থেকে ১১ মেগাওয়াট। এ জন্য লোডশেডিং বেশি হয়। লোডশেডিং চলাকালে রাতের অন্ধকারে মূলত বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। প্রতিটি চুরির ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ বাদী হয়ে থানায় মামলা করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হচ্ছে। তবে ট্রান্সফরমার চুরির পেছনে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনই জড়িত, পুলিশের এমন দাবি সত্য নয়।’