চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। তবে দাম কমেনি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা আসায় ইলিশের আড়তগুলোতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো মাছঘাট এলাকা।
বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) সকাল থেকেই বড়স্টেশন মাছঘাটের বিভিন্ন আড়তে ইলিশ কিনতে ভিড় করেন সাধারণ ক্রেতা ও মৌসুমি খুচরা ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ইলিশ আহরণের খরচ বেড়ে যাওয়া, মাছ কম ধরা পড়া এবং চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। তবে গত দুই সপ্তাহে ইলিশের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমবেশি ওঠানামা করছে।
ঢাকা থেকে মাছঘাটে আসা ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চাঁদপুরের ইলিশের স্বাদ অন্যরকম, যা ঢাকা থেকে কিনে পাওয়া যায় না। ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়ায় মাছঘাটে ভিড় বেড়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, ক্রেতা বেশি থাকায় দামও বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মাছের দাম না কমায় অনেক সাধারণ মানুষই খেতে পারছে না।’
আরেক ক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, ‘চাঁদপুরের লোকাল ইলিশ অর্থাৎ ভালো ও তাজা মাছের দাম কমেনি। এখনো পুরোপুরি তাজা ইলিশ কিনতে গেলে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা লাগে। আর ভোলা, বরিশাল ও হাতিয়ার মাছের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম। তবে চাঁদপুর ঘাটে এলে মাছ দেখে-বুঝে কিনতে হবে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির দিনে চাঁদপুরের বাজারে ক্রেতার অনেক চাপ থাকে। যে পরিমাণ ক্রেতা বাজারে আসছেন, সে তুলনায় মাছের সরবরাহ কিছুটা কম।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আর আধা কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।
তিনি বলেন, চাঁদপুরের নদীতে এখনো ইলিশ কম ধরা পড়ছে। নোয়াখালী, চরফ্যাশনসহ কয়েকটি জায়গা থেকে কিছু মাছ এসেছে। সব মিলিয়ে এখন প্রতিদিন বাজারে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশ উঠছে। অথচ আগে মৌসুমের এই সময়ে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশ আসতো।
শবে বরাত সরকার বলেন, সরবরাহ কম থাকা এবং মাছ ধরার পেছনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাছের দাম বেশি। তবে এই মৌসুমে ইলিশের দাম বাড়ার আর সম্ভাবনা নেই। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।