চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে (৪৫) প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী। বিভিন্নজনের ২৫ লাখ টাকা ও বন্ধকি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে সদর উপজেলার রঘুনাথপুরের মো. মনসুর খানের ছেলে মো. রাসেল খান বাদী হয়ে একটি প্রতারণার মামলা করেন। ওই মামলায় রাসেল অভিযোগ করেন, পিন্টু দাসের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় তিনি এবং আরও পাঁচ থেকে ছয় ব্যক্তি আর্থিক প্রয়োজনে সোনার চেইন, কানের দুল, সোনার লকেটসহ নানা অলঙ্কার বন্ধক রেখে নগদ টাকা নেন। পরে মূল টাকা ফেরত দিয়ে বন্ধকি স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইতে গেলে পিন্টু কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এ কারণে তিনি মামলা করেছেন।
দুপুরে পিন্টু দাসকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে সদর মডেল থানা পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রামের পটিয়া থানার দলঘাট দাসপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে থাকা পিন্টু দাসকে সপরিবারে উদ্ধার করে পুলিশ।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পিন্টু দাস বন্ধকি স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চাঁদপুরের ভাড়া বাসা থেকে সপরিবারে পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়ার কথা জানিয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেন একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা। এর সূত্র ধরে পিন্টু দাসকে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ার দলঘাট দাসপাড়া থেকে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই কালাম গাজীসহ পুলিশের একটি দল আটক করে। ওই দিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশের ঢাকা ও চাঁদপুরের কয়েকটি তদন্ত দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তদন্ত দল তার বিরুদ্ধে করা একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতার অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে রাসেল খান নামের এক ব্যক্তির করা প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ সকালে পিন্টু দাসকে আদালতে পাঠানো হয়। দুপুরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে বন্ধকি স্বর্ণালঙ্কার নিয়েছেন বলেও স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই উদ্ধার হওয়া তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে তাদের স্বজনদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
গত ২০ আগস্ট থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ উধাও হয়ে যান পিন্টু দাস। কয়েকদিন ধরে তার দোকান ও বাসা তালাবদ্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং মালামাল বহনকারী ট্রাকচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।