চট্টগ্রামে সারের ডিলার নিয়োগে আবেদনের হিড়িক পড়েছে। কৃষক পর্যায়ে সার বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নগরী ও জেলার ১৬ উপজেলায় ৩৮৪টি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য গত ২১ আগস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আবেদনের শেষ সময় থাকলেও বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ১ হাজার ১০টি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ২৯টি সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৮টি, ফটিকছড়ি উত্তরের ছয়টি ইউনিয়নে ১১টি, ফটিকছড়ির দুটি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ২৫টি এবং হাটহাজারীর একটি পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নে ৩৩টি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাটহাজারী অংশে একটি, রাউজান উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ৩০টি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে ৩২টি, বোয়ালখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে ২৪টি, পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে ৩৪টি এবং কর্ণফুলী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১০টি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২৪টি, চন্দনাইশ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ আটটি ইউনিয়নে ১৫টি, লোহাগাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নে চারটি, সাতকানিয়া উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ২৭টি, বাঁশখালী উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নে ২৮টি এবং সন্দ্বীপ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নে ৩৭টি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গা এলাকায় একটি করে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগছে
সার ডিলার হতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা নাগরিকত্ব সনদ, সাম্প্রতিক তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স এবং দোকান ও গুদামের পরিমাপের বর্ণনাসহ মালিকানা দলিল অথবা ভাড়ার চুক্তিনামার কপি জমা দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার ব্যাংক সচ্ছলতার সাম্প্রতিক সনদ, আবেদনকারী স্বাক্ষরিত ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক প্রত্যায়িত পরিবারের সদস্যদের পেশাসহ তালিকা এবং হালনাগাদ আয়কর রিটার্ন দাখিলের সনদ দিতে হবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে অফেরতযোগ্য ২ হাজার টাকা আবেদন ফি হিসেবে পোস্টাল অর্ডার, পে-অর্ডার অথবা ডিমান্ড ড্রাফট জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি বরাবর জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বরাবর আর্নেস্টমানি হিসেবে ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফট জমা দিতে হবে, যা ফেরতযোগ্য।
প্রথম দিকে ছিল দীর্ঘ লাইন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে সরাসরি আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করছেন। আবেদনের প্রথম দিকে কার্যালয়ে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও বর্তমানে সেই ভিড় কিছুটা কমেছে।
কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১ হাজার ১০টি আবেদন জমা পড়েছে। তবে আবেদনের শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগের লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথমে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনের শেষ সময় ছিল। পরবর্তীতে সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে আবেদনের শেষ সময়।’