স্বৈরাচার ফেরার পথ আপনারাই তৈরি করছেন: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোর সমাধান যদি আপনারা করতে না পারেন, তাহলে প্রথমে জনগণের কাছে সেটা স্বীকার করুন। স্বীকার করুন, এই সমস্যার সমাধান আপনাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। স্বীকার করুন, দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আপনাদের কাছে কোনও সঠিক পরিকল্পনা নেই। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। বিরোধী দল সমর্থন না দিলে একা এই দেশ চালানো সম্ভব নয়— এই বাস্তবতা মেনে নিন।”  

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।   

তিনি বলেন, “পতিত স্বৈরাচার কোনোভাবেই এই দেশে ফিরে আসতে পারবে না। একইভাবে নতুন করে কোনও স্বৈরাচার হওয়ার পথও আজ বাংলাদেশে তৈরি হতে দেবো না, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু সেই পথ আপনারাই তৈরি করছেন। কারণ জনগণের সমস্যার সমাধান আপনারা দিতে পারছেন না।”   

তিনি বলেন, “জনগণ বিকল্প খুঁজছে। আজকের লংমার্চে বাংলাদেশের জনগণ সেই বিকল্পের বাস্তব চিত্র দেখেছে।”   

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই সংকট আপনিই তৈরি করেছেন। আপনি সংসদকে কার্যকর করেননি। সংসদ কার্যকর না হওয়ার কারণে আজ আন্দোলন রাজপথে গড়িয়েছে। আপনি যদি প্রথমেই গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে সংবিধান সভা করতেন, তাহলে সেই সংবিধান সভায় আমরা আলোচনা করতে পারতাম। কিন্তু আপনি সেটা না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। গণভোটের গণরায় না মেনে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তারপরও দেশের স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আমরা সংসদে গিয়েছি এবং আছি।”   

তিনি বলেন, “দেশের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো এই সংসদকেও একগুঁয়ে প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে। আর এই সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের মূল হোতা হচ্ছেন চট্টগ্রামের সালাহ উদ্দিন সাহেব। তিনি একাই সংসদ চালান। উনি যদি একাই সংসদ চালান, তাহলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদে যাওয়ার প্রয়োজন কী? তিনি যেহেতু সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে পেরেছেন, বিরোধী দলের দায়িত্বও তিনি পালন করুক। আমরা রাজপথে জনগণের সঙ্গে থাকবো।”   

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনার বাবা যে ভুল করেছেন, সেই ভুল আপনি করতে যাবেন না। পতিত স্বৈরাচার ফিরে এলে আপনিও কিন্তু তার হাত থেকে রেহাই পাবেন না।”  

তিনি বলেন, “আজকের লংমার্চ থেকে এবং লংমার্চ-পরবর্তী এই বিরাট জনসমাবেশ থেকে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত করতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত করতে হবে।”  

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করুন, সুশাসন নিশ্চিত করুন, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত করুন এবং জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুন। ইনশাআল্লাহ বিএনপি দলকে আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু আপনি যদি দলবাজি করেন, আপনার আশপাশের লোকজন যদি তাদের সন্তান-পরিবারকে সুবিধা দিয়ে লুটপাট করে, তাহলে আমরা এক পা-ও আপনাকে সহযোগিতা করবো না।”   

সংসদে থাকা না থাকা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই অধিবেশনে এখনও সংসদে আছি। পরের অধিবেশনে যাবো কিনা, আমরা এখনও নিশ্চিত নই। কারণ জনগণের অধিকার ও জনগণের সমস্যার সমাধান যদি সংসদ থেকে না আসে, তাহলে এই সংসদ কোনও কাজেই আসবে না।”