ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টা থেকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের স্বল্পনোয়াগাঁও ও নতুন হাবেলিপাড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে স্বল্পনোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা হয়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে নতুন হাবেলিপাড়া গ্রামের এক কিশোর স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের এক কিশোরকে মারধর করে। তারা দুজনই খেলার দর্শক ছিল। এর জেরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ও দা-বল্লম নিয়ে গ্রামীণ সড়কে বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে চালিয়ে যেতে থাকে দুই পক্ষ। এতে এক এএসপিসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে মেহরাব আলম নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী রুক্কু হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে ইটের আঘাতে আহত হন সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম এবং সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার।
চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, ‘সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পায়ে এবং কোমরে আঘাত পেয়েছি। জখমি ফোলায় বরফ দিয়েছি। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে।’
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে আরও অনেকে এসেছেন।
সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমাদের সার্কেল এএসপি স্যার আহত হয়েছেন। তিনি পায়ে ইটের আঘাত পেয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি এনেছে।