মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় দাস

মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এ আদেশ দেন। বিকাল ৪টায় তিনি কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান। 

এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আবেদন করেন তার ভাই অঞ্জন কুমার ধর। সকালে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান। তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তার প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আবেদন মঞ্জুর হওয়ার কাগজপত্র আমাদের কাছে আসার পর বিকাল ৪টায় তাকে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।’

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সবার ছোট। গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি দিতে বুধবার কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেছিল পরিবার। এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। গত বুধবার রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকালে সেখানে মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনায় সাইফুল ইসলামের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।