ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করার কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদ ওরফে রাকিব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় রাকিবের নানার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।
গ্রেফতার রাকিব মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বুড্ডা এলাকার বাসিন্দা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবি-৯-এর গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসআরবি জানিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার চান্দিনার একটি পেশাদার নৃত্যশিল্পী দলকে সরাইলে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান রাকিব। এ জন্য ৯ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ২ হাজার টাকা অগ্রিম দেন তিনি। আমন্ত্রণ পাওয়ার পর চান্দিনা থেকে সরাইলে যান দুই নারী নৃত্যশিল্পী। তাদের সঙ্গে একজন তরুণ ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের মঞ্চের বদলে তাদের নেওয়া হয় তিতাস নদীর মাঝখানে। সেখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তরুণকে জিম্মি করে দুই শিল্পীকে ছয় যুবক ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। সেদিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নৌকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় এসআরবি।
মামলার বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে ওই তিন জনকে নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানির মধ্যে ফেলে রেখে নৌকা নিয়ে চলে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর সরাইল থানার পুলিশ শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামের একজনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাকিব মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় এসআরবি-৯। এরপর মঙ্গলবার রাতে বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে এসআরবি।
এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাকিব মিয়াকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যায় আসামিরা। এরপর ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা নিতে প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। এরপর সরাইল থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়।