অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে উঠায় দুই শিক্ষককে শোকজ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম ডে (আন্তর্জাতিক অনুজীব দিবস) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত চলাকালে ডিজিটাল স্ক্রিনে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় অডিটোরিয়ামের ডিজিটাল স্ক্রিনে হঠাৎ শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে স্ক্রিনে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত ভিডিও আগে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার বিষয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং শিক্ষকরা তা তদারকি করেন। এবারের অনুষ্ঠানেও একজন শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠান ও ব্যানার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থী ইউটিউব থেকে জাতীয় সংগীতের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন।’

অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘পুরো ভিডিওর শেষ ১০ সেকেন্ডের মতো এই ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী আমাদের বলেছে, সে বিষয়টি খেয়াল করেনি। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ট্রেজারার মহোদয়ের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছি। ছাত্র এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছে। সে বলেছে, সর্বোচ্চ ভিউ দেখে ভিডিওটা সিলেক্ট করেছিলাম, ভিডিওতে এমন কিছু থাকবে ভাবিনি।’

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ‘আজকের প্রোগ্রামে শুরুতেই আমাদের একটা র‍্যালি ছিল। এরপর প্রোগ্রাম শুরু হয়। আমাদের প্রোগ্রামগুলো জাতীয় সংগীত দিয়েই শুরু হয়। আগে আমাদের ডিজিটাল বোর্ড ছিল না, অডিওতে জাতীয় সংগীত বাজানো হতো। আজকে যে শিক্ষার্থীরা এর দায়িত্বে ছিল, তারা ইউটিউব থেকে একটা জাতীয় সংগীত ছেড়েছে। ওরা এটা ভাবেনি যে ভিডিওতে এ ধরনের কিছু থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেউই চাইনি এ ধরনের ছবি থাকুক। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঘটনা। এটা আসলেই আমাদের ভুল হয়েছে, আমাদের খেয়াল রাখা উচিত ছিল। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদেরও মন খারাপ হয়েছে, আমাদেরও খারাপ লেগেছে।’

এদিকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন তার বক্তব্যে ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের কনভেয়রের আরো সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা উচিত ছিল। এটি নিছক অসতর্কতা, নাকি এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জাতীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনার যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ককে শোকজ করেছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’