রাতে ডিউটি করা দুই পুলিশকে নাকি মারবে তারা, এবার সতর্ক বার্তা সন্ত্রাসী রায়হানের

পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. রায়হান কয়েক সপ্তাহ আগে পুলিশের হাত থেকে গ্রেফতার এড়িয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন। পালিয়ে থাকলেও ফেসবুকে সরব রয়েছেন তিনি। এর আগে ফেসবুক পোস্টে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে একাধিকবার হুমকি দিলেও এবার সতর্ক করে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের ফেসবুক থেকে দেওয়া এক পোস্টে ‘সতর্ক বার্তা’ দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, তাকে ফাঁসাতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, একটি ‘ডাকাত গ্রুপ’ রাতে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে।

ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম ও রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের উদ্দেশে রায়হান লেখেন, ‘ইতিমধ্যে আমি বিশেষ মাধ্যমে জানতে পেরেছি 
আমার এন্ট্রি গ্রুপগুলো আমাকে ফাঁসানোর জন্য, অনেক রকমের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা এই মুহূর্তে যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা হলো- যারা রাতে ডিউটি করে তাদের মধ্যে থেকে দুই জন পুলিশ নাকি মারতে হবে। হয় নাতোয়ান বাগিচা আর না হয় পূর্ব রাউজানে। এইগুলো কোনও বানোয়াট কথা না, আজিজে আর ডাকাত গ্রুপ মিলে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে, আমার নাম ব্যবহার করে আরও অনেক অনেক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা, আমার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করে। আমার ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, প্রোফাইল ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

পুলিশের ভাষ্য, রায়হান বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী এবং তার অপরাধচক্রের অন্যতম সদস্য। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে।

পুলিশের অভিযানে বড় সাজ্জাদের দলের আরেক সদস্য মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গত ২৯ জুলাই রাতে যশোর থেকে গ্রেফতার হন। একই দিন মো. রায়হানকে গ্রেফতারের জন্য নোয়াখালীতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন রায়হান। এর মধ্যেই সোমবার বিকালে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া ওই পোস্টকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট একই অ্যাকাউন্ট থেকে পুলিশকে উদ্দেশ করে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ ধরনের হুমকির পোস্ট দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’