হাট ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ

যুবদল নেতার মামলায় জামায়াতের ২৫ নেতাকর্মী কারাগারে

নেত্রকোনার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির জয়নাল আবেদিনও রয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। তাদের মধ্যে অন্যরা হলেন- ধলামূলগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান রেজুওয়ানুর রহমান, নোবেল খান, মাহফুজুল হক উজ্জ্বল, মাসুম আকন্দ, সোহাগ মিয়া, সাহাব উদ্দিন, মো. আল আমিন, তাইজুল ইসলাম ও খোকন মিয়াসহ ২৫ জন নেতাকর্মী।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘এর আগে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন আসামিরা। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।’

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উচ্চ আদালতের দেওয়া আট সপ্তাহের আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আসামিরা আজ আদালতে হাজির হন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ বিকালে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।’

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে পূর্বধলা উপজেলার কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেওয়ার দিন ছিল। হাটের ডাককে কেন্দ্র করে ওইদিন উপজেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে বিএনপি, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি ওমর শরীফ গত ২৫ মে পূর্বধলা থানায় মামলা করেন। মামলায় পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির জয়নাল আবেদিনসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়।

আসামিদের মধ্যে ২৫ জন পরে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষে বুধবার সকালে তারা নিম্ন আদালতে জামিনের জন্য হাজির হন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জামায়াতের নেতারা বলছেন, মামলার আসামিরা ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, হাটের ডাককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই মামলার আইনিভাবে মোকাবিলা করবো। আশা করছি, আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।’