ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে বৃষ্টিতে ভিজে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ফলক উন্মোচন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর বৃষ্টির মধ্যে মাটি কেটে ও ড্রেজার মেশিন চালু করে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
ফলক উন্মোচনের পর সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় মুহুরী নদীর দুই পাড়, সভামঞ্চ এলাকা এবং বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই ঘাটঘর এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। তীব্র গরম উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেখানে উপস্থিত হন।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যাবেন। সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম প্রমুখ।
প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মুহুরী-কহুয়া বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো পুনর্বাসনের মাধ্যমে ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজীসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর ভাঙন, বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি, জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের কারণে স্থানীয় কৃষি ও জনজীবন নানা সমস্যার মুখে পড়ে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিজমি সুরক্ষা, ফসল উৎপাদন এবং পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কর্মসূচি রয়েছে।
বিকালে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।