চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এখনও কাটেনি অচলাবস্থা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চুয়েট অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার চুয়েট ক্যাম্পাসে নতুন ভিসি আসতে পারেন এমন খবরে সকাল থেকে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। সকাল ৯টা থেকে তারা অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এ সময় কোনও ধরনের যানবাহন চুয়েটে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে আজ বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেনি। তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন।
অপরদিকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েট উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
চলমান আন্দোলনের কারণে গত ১৭ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে চুয়েটে অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও উদ্যাগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
চুয়েটের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৬ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে চুয়েটকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করেছেন। কোনও অভিযোগ ছাড়াই তাকে অপসারণ করা হয়েছে। এটি অন্যায়। তাকে স্বপদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই তারা আন্দোলনে নামেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এর আওতায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অবস্থান, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত আসে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।