চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এবার ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এত দিন ধরে চুয়েট ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করে আসছিল।
চলমান আন্দোলনের কারণে গত ১৫ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি একই দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি নিয়ে আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্যই আমাদের বক্তব্য বুঝবেন— যা বিগত দিনের পতিত স্বৈরাচার বুঝতে পারেনি।
তারা আরও বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা আপনার কাছে আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই। একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি যেমন আপনার সন্তান জাইমা রহমানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তেমনি দেশের হাজারো শিক্ষার্থীকেও আপনার সন্তানের মতো বিবেচনা করবেন— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আপনি আমাদের অভিভাবক। আমাদের বক্তব্য শুনুন, আমাদের পাশে দাঁড়ান এবং চুয়েটের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন— এটাই আমাদের বিনীত আবেদন।
চুয়েটের শিক্ষার্থী নুরুল আমিন বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৬ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে চুয়েটকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করেছেন। কোনও অভিযোগ ছাড়াই তাকে অপসারণ করা হয়েছে। এটি অন্যায়। তাকে সপদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই তারা আন্দোলনে নামেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এর আওতায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অবস্থান, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত আসে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে নামেন।আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।