রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন’ নামের দুটি সংগঠন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নামে একটি সন্ত্রাসী দল সশস্ত্র তৎপরতার মাধ্যমে সাজেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং সাজেকবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে তারা এ অবরোধ কর্মসূচি পালনে বাধ্য হচ্ছেন।
কর্মসূচি সফল করতে সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। একইসঙ্গে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা এলাকার সব যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে এই সড়কে যানবাহন না চালানোর অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, শনিবার সকাল ও বিকালের স্কর্টে নিয়ম অনুযায়ী পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করেছেন এবং নতুন পর্যটকরাও এসেছেন। বর্তমানে সাজেকে বেশ কিছু পর্যটক অবস্থান করছেন।
সার্বিক বিষয়ে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
পর্যটকদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটকরা যাতে নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করতে পারেন, সেজন্য আমাদের ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত ১৮ ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও শনিবার যারা নতুন করে সাজেকে গেছেন, তাদের বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। এর ফলে পর্যটকরা কোনও ভোগান্তিতে পড়লে তার দায় পর্যটক ও প্রশাসনের, আমরা তো আগেই পর্যাপ্ত সময় দিয়েছিলাম।’