অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যের বুকে ব্যথা, যেতে চান হাসপাতালে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হাসপাতালে যেতে চান তিনি। তবে তাকে পরীক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। পরে আরেক চিকিৎসক তার রক্তচাপ বেশি পাওয়ার কথা জানিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা একটার দিকে চুয়েটের উপাচার্য ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অসুস্থতার কথা জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভবনটিতে অবরুদ্ধ রয়েছেন তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে উপাচার্যসহ অন্তত ১১ জন ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে কয়েকজন সাংবাদিক উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তারা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বুকের লেফট সাইডে ব্যথা করছে। আমি ডাক্তার দেখাতে চাই, হসপিটালাইজড হতে চাই।

উপাচার্যের অসুস্থতার খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে তার দফতরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্যের পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে এবং তিনি ভালো আছেন।

উপাচার্যকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন আছে কি না, জানতে চাইলে শাহাবুদ্দিন বলেন, উপাচার্য মূলত তার পালস ও রক্তচাপ পরীক্ষা করতে বলেছিলেন। পরীক্ষায় রক্তচাপ পাওয়া গেছে ১২০/৮০। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য নিয়মিত কোনও ওষুধ খান না, তবে মাঝেমধ্যে রক্তচাপের ওষুধ খান। রক্তচাপ বেড়ে গেলে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। উপাচার্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি বলেও জানান এই চিকিৎসক। তার ভাষ্য, উপাচার্য শুধু অবরুদ্ধ অবস্থায় অস্বস্তি বোধ করার কথা জানিয়েছেন।

পরে বেলা দুইটার দিকে উপাচার্যকে দেখতে যান রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপুল কান্তি দে। তিনি বলেন, উপাচার্যের রক্তচাপ ১৫০/১০০ পাওয়া গেছে। উপাচার্য বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। এ কারণে তাকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এসব কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব পাওয়ার পরও নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না। তবে গতকাল শাখা ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে নিজের দফতরে প্রবেশ করেন তিনি।

নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা তার দফতরের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে দুপুর ১২টার দিকে তারা আবারও উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই তারা তালা খুলে দেবেন। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি পদত্যাগ করলেই আমরা তালা খুলে দেবো। তখন তিনি সসম্মানে যেতে পারবেন।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানউল্লাহ বলেন, উপাচার্য এভাবে ক্যাম্পাসে আসবেন, তা তারা ভাবেননি। তারা নিজেদের অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। উপাচার্যের সঙ্গে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আছেন বলে তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আহসানউল্লাহ বলেন, এখন তারাই উপাচার্যকে সহায়তা করুন।