কুমিল্লায় ছয় ঘণ্টায় আরও ৩৫১ জন আটক

কুমিল্লায় আবার একযোগে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ৬ ঘণ্টার অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আছে— এমন স্থানগুলোর পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হয়। এতে জেলার ১৮টি থানার সব ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ অংশ নেয়। পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযানে ছিলেন।

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

এর আগে ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা দুই রাতের অভিযানে ৪৫০ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। এর মধ্যে ২৩ অক্টোবর ২৭৫ জন আটক হন। তখন ১৪২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২২ অক্টোবর আটক করা হয়েছিল ১৭৫ জনকে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিন জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশের তদন্তে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ১৮টি থানায় বিশেষ অভিযান শুরু করে জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের পুলিশি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।