‘ভিআইপি’ সেবায় সন্ত্রাসীর আস্তানায় গিয়ে ৭৪ জমির দলিল রেজিস্ট্রি করলেন সাব-রেজিস্ট্রার

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাবের (বর্তমানে এসআরবি) এক কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি ও আলীনগরে ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের নামে বিভিন্ন পরিমাণের ৭৪টি জমির বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন সীতাকুণ্ডের সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। ‘ভিআইপি’ মর্যাদা দিয়ে তার আস্তানায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ৬৫টি এবং ১ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আরও নয়টি দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন তিনি।

এর মধ্যে ২৬ অক্টোবর রায়হান হাবীবকে বদলির খবরে আসে। আর ২৮ অক্টোবর ৬৫টি জমির দলিল রেজিস্ট্রির খবর জানাজানি হলে রায়হান হাবীবের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাবীবের বদলির আদেশ সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছিল মন্ত্রণালয়। তার মধ্যেই ১ অক্টোবর আরও নয়টি দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। 

গত ২৬ অক্টোবর রায়হান হাবীবসহ দেশের ৮৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করা হয়। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে রায়হান হাবীবের বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুরের স্বঘোষিত রাজা ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অন্যতম। র‌্যাবের (বর্তমান এসআরবি) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি/নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন। হত্যা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২১টি মামলা। পুলিশের খাতায় পলাতক অথচ জমি নিবন্ধনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ‘ভিআইপি’ সেবা নিয়েছেন তিনি।

সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন ইয়াসিনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে তখন রাতের আঁধারে তার গোপন আস্তানায় গিয়ে প্রথম দফায় ৬৫টি এবং দ্বিতীয় দফায় নয়টি দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব ও তার সহযোগী একটি দল। দুই দফায় রেজিস্ট্রি করে দেন ৭৪টি দলিল। এর মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একদিনেই ৬৫টি এবং ১ অক্টোবর আরও নয়টি দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন। সব মিলিয়ে ইয়াসিনের দখলে থাকা ২৭৫ শতক জমি বিক্রির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আর পুরো প্রক্রিয়ায় পদে পদে নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে, দেওয়া হয়েছে ‘ভিআইপি’ সেবা।

কীভাবে আস্তানায় গিয়ে রেজিস্ট্রি করা হলো

কমিশনে এসব দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য কাগজপত্র ও দলিলসহ আবেদন জমা দেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন। পরে ইয়াসিনের আস্তানায় গিয়ে এসব জমি রেজিস্ট্রি করে দেন সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব ও তার সহযোগী একটি দল।

বাংলাদেশের প্রচলিত রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ (ধারা ৩৮) অনুযায়ী, শারীরিক অক্ষমতা, কারাবাস, গুরুতর অসুস্থতা বা অন্য কোনও বৈধ কারণে কোনও ব্যক্তি যদি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে দলিল সম্পাদন করতে না পারেন, তবে কমিশনের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন করা যায়। এই নিয়মের সুযোগ নিলেও বাস্তবে কোনও নিয়মই মানেননি ইয়াসিন।   

কমিশনে দলিল নিবন্ধনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া

যে ব্যক্তি বা পক্ষ অফিসে যেতে অক্ষম, তার পক্ষে বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের বরাবর নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়।

এরপর সাব-রেজিস্ট্রার সন্তুষ্ট হলে দলিল গ্রহণের জন্য কোনও সাব-রেজিস্ট্রার বা নির্ধারিত কোনও কর্মকর্তা/কমিশনারকে ওই ব্যক্তির বাড়ি, হাসপাতাল বা নির্দিষ্ট স্থানে পাঠান। পরে কমিশনারের উপস্থিতিতে দলিলদাতা দলিলটি পড়ে বা বুঝে স্বাক্ষর বা টিপসই দেন এবং সাক্ষীগণ সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া কমিশনার ঘটনাস্থল থেকে দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বাক্ষরসহ সংগ্রহ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। যার কোনোটাই মানা হয়নি ইয়াসিনের দলিল রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে।

জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরের নিয়ন্ত্রণ

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এগোলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে একটি সড়ক পাহাড়ের ভেতরে চলে গেছে। সেই পথেই জঙ্গল সলিমপুরের শুরু। এলাকাটি মূলত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর—এই দুই অংশে বিভক্ত।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আলীনগর দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখানে পুলিশের অভিযানের পর ইয়াসিন ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেন। এর আগে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয়। পরে জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে সরকার।

ইয়াসিনের বিক্রি করা এসব জমির দলিলে মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ দলিলে দেখানো মূল্য ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে বাজারমূল্যের মধ্যে ব্যবধান ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। 

আবার কয়েক বছর আগেও ঝুট মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করা ইয়াসিন কীভাবে জঙ্গল সলিমপুরের বিপুল জমির মালিক হয়ে উঠলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লিংক রোডের আশপাশে প্রতি শতক জমি ৯ -১০ লাখ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। সেই হিসাবে, সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার ভূসম্পদ রয়েছে। এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরে গাছসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীরা এসব সম্পদ বিভিন্নভাবে দখল করে রেখেছে। সরকারি খাসজমির পাশাপাশি সেখানে কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও রয়েছে।

পদে পদে অনিয়ম

সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিনের দখলে থাকা ২৭৫ শতক জমি বিক্রির জন্য সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করেন এক আইনজীবী। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই অসুস্থ। এ কারণে তাদের পক্ষে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে দলিল নিবন্ধন করা সম্ভব নয়। তাই বাসায় অবস্থান নিয়ে দলিল নিবন্ধনের অনুমতি চাওয়া হয়। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কমিশন টিম ইয়াসিনের গোপন আস্তানায় গিয়ে দলিল নিবন্ধন করে। তবে এতগুলো জমি নিবন্ধনের আগে কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই করেননি সাব-রেজিস্ট্রার হাবীব ও তার অফিস।

কমিশনের মাধ্যমে তিনটির বেশি দলিল রেজিস্ট্রির সুযোগ নেই

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিশনের মাধ্যমে একসঙ্গে তিনটির বেশি দলিল রেজিস্ট্রির কোনও সুযোগ নেই। অথচ একদিনেই ৬৫টি দলিল রেজিস্ট্রির ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে এতগুলো দলিল রেজিস্ট্রি করা হলো, কোন নিয়মে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন আছে।’

রেজিস্ট্রির কাজে আরও যারা যুক্ত ছিলেন

ইয়াসিনের জমি রেজিস্ট্রির জন্য দুই দফায় তার আস্তানায় যান সাব-রেজিস্ট্রার হাবীব, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী করিম, সিরাজউদ্দিন, তুষার ও রতন। পুরো কাজটি সম্পন্ন হয় সন্ধ্যার পর। রেজিস্ট্রির পুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। বদলির আদেশ পাওয়ার পরও একই কাজ করেছেন তিনি।

জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে ইয়াসিনের আস্তানায় গিয়ে দলিলগুলো নিবন্ধনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী সিরাজউদ্দিন। তবে তিনি স্থানটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারেননি। সিরাজউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাটিয়ারি থেকে আধা কিলোমিটার পথ ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আমাদের। তার ওই বাসাটা ঠিক কোথায় আমার মনে নেই। এটি একটি আস্তানা মনে হলো। ইয়াসিন ওই রকম পরিচিত মানুষ না। তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, জানিও না। আমি এর বাইরে কথা বলতে পারবো না।’

পলাতক আসামি ইয়াসিন ২৪ আগস্ট এসব জমির খাজনাও দিয়েছিলেন

দলিল নিবন্ধনের আগে গত ২৪ আগস্ট এসব জমির খাজনাও পরিশোধ করেন ইয়াসিন। এতে উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, জমির মালিকানা ও খাজনা পরিশোধের বিষয়টি আলাদা এবং দলিল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইয়াসিনের নামে যদি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে থাকে, তাহলে তার অধিকারমূলে খাজনা দিয়েছেন। তবে জমির দলিল হস্তান্তরের পেছনে ভূমি অফিসের কোনও ভূমিকা নেই।’

সবশেষ নয়টি জমির দলিল রেজিস্ট্রির বিষয়ে জানতে সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীবের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে একদিনে ওতগুলো দলিল রেজিস্ট্রি করার বিষয়ে জানতে চাইলে ২৮ অক্টোবর সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব বলেছিলেন, সীতাকুণ্ডের ভূমি অফিসের কাগজপত্র অনুযায়ী, এসব জমি ইয়াসিনের নামে নামজারি করা আছে। ইয়াসিন খাজনাও দিয়েছেন। কাগজপত্র ও দলিলসহ এসব জমির জন্য আবেদন জমা দেন আইনজীবী নাজিম উদ্দিন। কাগজপত্র ঠিক থাকায় দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

জঙ্গল সলিমপুরের জমি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের তৎপরতার পরও কীভাবে দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করা হলো জানতে চাইলে রায়হান হাবীব বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র দেখি। এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের জমি নিয়ে আমাদের বিশেষ কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া মেনেই দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।’

যা বলছেন জেলা প্রশাসক

এ ব্যাপারে ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘বিষয়টি আমরা ২৮ অক্টোবর বিকালে শুনেছিলাম। পরে মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সীতাকুণ্ডের ইউএনও হাবীবকে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইয়াসিন নিজে তার কাছে আসেননি। বিধিমালা ও আইন অনুযায়ী, তার কাছে কাগজপত্র নিয়ে আসায় দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইয়াসিন হচ্ছে মার্ডার মামলার আসামি। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে লিপ্ত আছেন। সাব-রেজিস্ট্রার তার বিষয়ে কেন জানলেন না, এটা তার বিষয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২০টির বেশি মামলা, তবু তার সন্ধান পাচ্ছে না পুলিশ

ইয়াসিনের বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা থাকার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ‘জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন। সে রকম একজন ব্যক্তির বিষয়ে সবকিছুই নিয়ম মাফিক চলছে, আমরা কিছুই জানি না, আমাদেরকে ওসব বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে কাজ করছি।’