একসঙ্গে ৮টি পিস্তল দেখানো কে এই ‘বুলেট হৃদয়’

চট্টগ্রামের রাউজানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আটটি পিস্তল প্রদর্শন করে আলোচনায় এসেছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হৃদয় ওরফে বুলেট। আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিস্তল হাতে তার ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার পিস্তল হাতে ছবি ছড়িয়ে পড়লেও সেটি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এবার একসঙ্গে আটটি বিদেশি অত্যাধুনিক পিস্তল সামনে রেখে তার অস্ত্র প্রদর্শনের ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাউজানজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনকারী যুবককে বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবউল্লাহ পাড়া এলাকার সন্ত্রাসী বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেট হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি টেবিলের ওপর সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আটটি বিদেশি অত্যাধুনিক পিস্তল। এ সময় এক ব্যক্তিকে হুমকির সুরে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছ কোথায়? প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্ব উল্টে ফেলবো। তোদের জন্য টাকা দিয়ে এনেছি মরণের টিকিট।’ কথাগুলো বলার সময় পিস্তলগুলোর ওপর আঙুল নাড়তেও দেখা যায় তাকে।

ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘মনে রেখো, সময় থাকতে ভালো হয়ে যাও। সময় থাকতে তোরা ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। তোদের অবস্থা খুব খারাপ করে ফেলবো বলে দিলাম। আমি তুফান।’

একসঙ্গে আটটি পিস্তল প্রদর্শনের এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে থাকা যুবককে প্রাথমিকভাবে হৃদয় ওরফে বুলেট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিস্তল হাতে তার ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। তখনও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উদ্ধার করা হয়নি অস্ত্র। এবার আটটি বিদেশি অস্ত্র সামনে রেখে ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

পাহাড়তলী ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হৃদয় ওরফে বুলেট এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কথায় কথায় অস্ত্র বের করে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তার ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বুলেট পাহাড়তলী এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে। ওই গ্রুপের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। বাগোয়ান ও পাহাড়তলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তার অনুসারীদের তৎপরতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হৃদয় ওরফে বুলেটের বাড়ি বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবউল্লাহ পাড়ায়। তবে তার শ্বশুরবাড়ি পাহাড়তলী ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামে। বিভিন্ন সময় পুলিশ তাকে আটক করলেও অল্প কয়েক দিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সে আগেও গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছে।’

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যে উপজেলায় ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। 
নিহতদের অধিকাংশই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাটি-বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজির অর্থের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।