লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কার্যাদেশের প্রায় ১০ মাস পার হতে চললেও প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারকাজে এমন ধীরগতিতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। পাশাপাশি সড়কের বেহাল দশায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় হায়দরগঞ্জ সড়কের ১ হাজার ৯৬০ মিটার, উপজেলা পরিষদের ভেতরে পুকুরপাড়ের ৩০০ মিটার, টিসি সড়কে প্রস্তাবিত পৌর শিশুপার্কের ৮৬০ মিটার এবং মেস্তরীবাড়ি সড়কের ১০০ মিটার সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। চারটি সড়কের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস।
২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। একই দিন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া কাজের উদ্বোধন করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৪ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে কার্যাদেশের প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৪ শতাংশ। প্রথম চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে বাকি রয়েছে প্রায় পাঁচ মাস। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল দশা চলতে থাকায় যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা। নির্মাণকাজের ধীরগতির পাশাপাশি সড়কের বেহাল অবস্থায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী বহনকারী যানবাহন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষকে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নতুনবাজার এলাকার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন, মিন্টু ও জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এক বছরের প্রকল্পের মেয়াদের প্রায় ১০ মাস পার হতে চলেছে। অথচ কাজ হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক দিয়ে যেভাবে কাজ করা হচ্ছে, তাতে তিন বছরেও কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু আশ্বাসই দিচ্ছেন, কিন্তু কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নিয়মিত তদারকি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মালিক দুলাল দে মুঠোফোনে বলেন, বিভিন্ন কারিগরি ও আর্থিক সমস্যার কারণে কাজের অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়েছে। হায়দরগঞ্জ সড়কের আধা কিলোমিটার অংশে ড্রেনের কাজ হয়েছে। শিশুপার্কের সড়কের কাজে বালু ফেলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের ভেতরে পুকুরপাড়ের কাজ এখনও শুরু হয়নি। মেস্তরীবাড়ি সড়কেও কিছু কাজ করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
রায়পুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মাহামুদুন্নবি বলেন, প্রকল্পের কাজের ধীরগতির বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে তদারকি করেও নির্ধারিত সময়ে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।