চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় মাইশা মুশফিরাত (২০) নামে এক নারী শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাইশা মুশফিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (ইএলএল) বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বরতাকিয়া এলাকার বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি লরি ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশা মুশফিরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন। ঘাতক লরিচালককে গ্রেফতার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সীতাকুণ্ড রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার নিজাম উদ্দীন জানান, অবরোধের কারণে ফৌজদারহাটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রয়েছে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শামীম আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। একটি মিনিবাসকে পেছন থেকে লরি ধাক্কা দিলে বাসটি শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে পড়ে। এ ঘটনায় এক নারী শিক্ষার্থী নিহতসহ আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।