এক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক-রেলপথ অবরোধে ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে নতুন বরিশল ইউনিয়ন গঠন এবং সদর ও বিজয়নগর উপজেলা বিভক্ত করে বরিশল নামে নতুন উপজেলা করার উদ্যোগের প্রতিবাদে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কে যান চলাচল এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

রবিবার সকাল ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা রেললাইনে স্লিপার ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন। একই সঙ্গে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন তারা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বরিশল গ্রামের বাসিন্দা জেলা বিএনপির নেতা ও ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ ভূঁইয়া এবং তার ভাই প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে বরিশল নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করেছেন। নতুন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার বাবাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এখন সদর ও বিজয়নগর উপজেলা ভেঙে বরিশল নামে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

বাসুদেব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য টিপু সুলতান বলেন, বাসুদেব, কোড্ডা, চান্দি ও কোড়াবাড়িসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এলাকাবাসী আন্দোলনে নেমেছেন।

সাবেক ইউপি সদস্য রুস্তুম মিয়া বলেন, সদর উপজেলা থেকে এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা আগের মতোই সদর উপজেলার সঙ্গে থাকতে চান। নতুন কোনও ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হতেও রাজি নন।

বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেসার উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। একইভাবে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগও তারা মেনে নেবেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আখাউড়া বাইপাস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার তাহুরুল ইসলাম বলেন, রেললাইনে স্লিপার ফেলে অবরোধের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অবরোধের কারণে সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে অবরোধের কারণে ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি আন্তনগর ট্রেন আটকা পড়েছে।