বিজিবির ধাওয়ায় ভেস্তে গেলো মানবপাচারের চেষ্টা, উদ্ধার ৯

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের একটি ঘাটে জড়ো করা হয়েছিল ৯ জনকে। তাদের মধ্যে কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। তাদের নিতে ঘাটের দিকে আসছিল পাচারকারীদের একটি নৌকা। তবে শেষ মুহূর্তে বিজিবির অভিযানে ভেস্তে যায় পাচারের পরিকল্পনা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় উঠে সাগরের দিকে পালিয়ে যান পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।

শনিবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বিজিবি জানায়, শনিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকা দিয়ে কয়েকজনকে জোরপূর্বক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে। খবর পেয়ে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘাটে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দলকে দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহজনক নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে সেটিকে ধাওয়া করেন তারা।

একপর্যায়ে পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য দ্রুত নৌকায় উঠে সাগরের দিকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে আসা ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ ও ১৬ বছর বয়সী দুজন কিশোর এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে। তাদের কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। অন্যরা কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী ও উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার ব্যক্তিরা তাদের জোরপূর্বক মানব পাচারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন। মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান কঠোর। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। উদ্ধার ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।