চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে নৌশ্রমিকদের ধর্মঘট

নৌযান শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ১৬ ঘাট। বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে বুধবার রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন শুক্রবারও বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের পণ্য খালাস, পণ্য পরিবহন ও এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন এই ধর্মঘট ডেকেছে।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, ধর্মঘটের ফলে প্রায় ১৫০০ নৌযান কর্ণফুলী নদীর ১৬ ঘাটে বাঁধা রয়েছে। সদরঘাট থেকে কোনও রুটেই নৌযান চলাচল করছে না।
বন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে শত কোটি টাকার পণ্য নিয়ে ভাসছে ২৫টি মাদার ভ্যাসেল। লাইটারেজ জাহাজে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় মাদারভ্যাসেলগুলো থেকে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যগুলো খালাস এবং সরবরাহ না হলে সিমেন্ট এবং চিনিকলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম এ ধর্মঘটের বিষয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে তিনি শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

প্রসঙ্গত, নৌ শ্রমিকদের এই ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব ধরনের দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস, পণ্য পরিবহন ও গভীর সাগরে মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নদী পথে পণ্য পরিবহনে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। লাইটারেজ, কার্গো, বার্জ, অয়েল ট্যাঙ্কার, কোস্টার থেকে শুরু করে সব ধরনের জাহাজী ও যাত্রীবাহী নৌযানের শ্রমিকরা একযোগে এ কর্মবিরতি পালন করছেন।

আরও পড়ুন:

জুতার বাক্সে ২০টি তাজা ককটেল!

 /এমও/