গ্যাস সংকট প্রকট

৪ দিন ধরে গ্যাস নেই মানিকগঞ্জের বাসা-বাড়িতে

মানিকগঞ্জে আবারও গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। গত চার দিন ধরে এ জেলার বাসা-বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে গভীর রাতে ঘণ্টা খানেক সময়ের জন্য গ্যাসের দেখা পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় কোনও গ্যাস পাওয়া যায় না।

হঠাৎ গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি কোং লি. মানিকগঞ্জের উপ-ব্যবস্থাপক মো. আতিয়ার রহমান বলেছেন, সরকারি বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য এ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে রোজা শুরুর আগে গ্যাসের সমস্যা সমাধান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

মানিকগঞ্জের ১৪ হাজার বাড়িতে চার দিন ধরে কোনও গ্যাস নেই। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন ১৭টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ২২০টি বাণিজ্যিক ও ৬৪ শিল্প প্রতিষ্ঠানেও প্রায় একই দশা। সিএনজি স্টেশনগুলোর বাইরে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। যাতে লেখা আছে ‘মেইন লাইনে গ্যাস নেই। তাই গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়।’

আতিয়ার রহমান আরও জানান, মানিকগঞ্জে যে মাত্রায় গ্যাসের পেসার পাওয়ার কথা তার একাংশও মিলছে না। আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সিএনজি স্টেশন সব মিলিয়ে গ্যাসের চাহিদা ১৫ মিলিয়ন ঘন ফুট। কিন্তু গত কয়েক দিন তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

৩১মে থেকে মানিকগঞ্জে আবাসিক লাইনে গ্যাস নেই। পৌরসভার রিজার্ভ ট্যাংক এলাকার গৃহীনি আইরিন সুলতানা সাথী জানান, চার দিন ধরে গ্যাস না থাকায় রান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বাইরে অস্থায়ী চুলা বানিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এছাড়া হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতেও হচ্ছে।

শহরের পশ্চিম দাশড়ার নাগবাড়ী এলাকার গৃহীনি সায়মা সুলতানা শিমু জানান, সরকারি গ্যাসের সমস্যার কারণে এলপি গ্যাস দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে।

শিবালয় উপজেলার দশচিড়া গ্রামের গৃহীনি লুৎফুন্নাহার তুলি জানান, গ্যাসের জন্য বড়দের দূরের কথা ছোট বাচ্চার রান্না করতে পারছেন না তিনি। মাটির চুলা বানিয়ে রান্না করছেন।

আরও পড়ুন: সিলেটের সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ

/এসটি/