মাদারীপুরের কালকিনির আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে বৃহস্পতিবার লাশ ভেবে উদ্ধার করা গলার অর্ধেকটা কাটা তরুণী গৃহবধূ রেবার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার রাতেই তার কণ্ঠনালীতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসার জন্য আরও কিছুদিন হাসপাতালে তাকে থাকতে হবে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ‘নদীতে কচুরীপানার ধাপের সঙ্গে লাশ ভেসে যাচ্ছে’ এই খবরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ বাঁশগাড়ি লঞ্চঘাটের কাছ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এই তরুণীকে উদ্ধার করেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রশিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠিয়ে পরে অ্যাম্বুলেন্সে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ও পরে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শরীফ আব্দুর রশিদ বলেন, সকালে নদী থেকে লাশ ভেবে ওই তরুণীকে পারে ওঠানোর পর সে কথা বলার চেষ্টা করলেও গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছিল না। কি যে ভয়াবহ অবস্থা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক এ্যাম্বুলেন্স এবং ঔষুধের জন্য ৭ হাজার টাকার বেশি খরচ করে বরিশাল মেডিক্যালে পাঠানো হয়।
এসআই আরও বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানতে তার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে আসে। শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। রেবার মা লালমতি বেগম, মেয়ে ঝুমা আক্তার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্র জানায়, রেবার স্বামী কালকিনির উড়ারচরের আক্তার হাওলাদার। তিনি একটি মসজিদের ইমামতির কাজে মুন্সীগঞ্জে থাকেন। গতকাল বিকেলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে পাশের দক্ষিণ বাঁশগাড়ি পরিপত্তর গ্রামের জামাই সরোয়ার হোসেন বেপারীর বাড়িতে রেবাকে নিয়ে যান তার শাশুড়ি জুলেখা বেগম।
রাতে রেবা আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বাশুড়ী জুলেখা বেগম ও ননদ জামাই সরোয়ার হোসেন বেপারীসহ অন্যরা নদীর পাড়ে নিয়ে গলা কেটে মারা গেছেন ভেবে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভাসিয়ে দেন। এরপর কণ্ঠনালী কেটে যায় রেবা আক্তার কোন শব্দ না করতে পারলেও একটি কচুরীপানার উপর ভেসে থাকেন। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্ট হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেবার শাশুড়ি বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের উড়ারচর গ্রামের মাজেদ হাওলাদারের স্ত্রী জুলেখা বেগম ও পাশের গ্রামের তার মেয়ে জামাই দক্ষিণ বাঁশগাড়ির পরিপত্তর গ্রামের সরোয়ার হোসেন বেপারীকে আটক করেছে পুলিশ। মূলত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষে শুক্রবার দুপুরে খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শরীফ আব্দুর রশিদ জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছেন রেবার শাশুড়ি জুলেখা বেগম। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের পর আজ শুক্রবার গ্রেফতারকৃত শাশুড়ি ও জামাতাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাশুড়ি জামাই মিলে গলায় ছুরি চালায় রেবার
/এইচকে/