চায়ের দোকানের নামে আওয়ামী লীগের কার্যালয়: ব্যবস্থা নিলেন শামীম ওসমান

এনায়েতনগরে সুফিয়া বেগমের বাড়িনারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে সুফিয়া বেগম নামে এক বৃদ্ধার বাড়ির একটি কক্ষ চায়ের দোকানের নামে ভাড়া নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের অফিস বানানো এবং সেখানে নেতাদের ছবি সাঁটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ত্বড়িৎ ব্যবস্থা নিয়েছেন স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান। বাংলা ট্রিবিউনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়ানোর পর মঙ্গলবার দুপুরে শামীম ওসমানের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই বৃদ্ধাকে তার ঘর বুঝিয়ে দেন।

সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল এনায়েতনগর এলাকার নিরন সরকারের স্ত্রী বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে যুবলীগ নেতা মমিনুল ইসলাম পুষন চায়ের দোকান করার জন্য আমার ছেলের কাছে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে রুমটি ভাড়া নেয়। কিন্তু পরে জানতে পারি তারা চায়ের দোকানঘর করার নামে আওয়ামী লীগের অফিস বানাবে। এটা জেনে আমি পুষনের কাছে ১৫ দিন আগে টাকা ফেরত দিয়েছি। কিন্তু গত রবিবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন প্রধান, যুবলীগ নেতা মমিনুল ইসলাম পুষন, সুলতান মাহমুদসহ ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মী আমার বাড়ির ওই কক্ষটি জোর করে দখল করে আওয়ামী লীগের অফিস বানানোর কাজ শুরু করে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় রঙ দেওয়ার কাজ।

মঙ্গলবার সকালেই এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় বাংলা ট্রিবিউনে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নজরে আসে এমপি শামীম ওসমানের।

এ ব্যাপারে শামীম ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেই অন্যায় করুক তার ছাড় নেই। নিরীহ বৃদ্ধার বাড়ি দখল করে আওয়ামী লীগ কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে প্রকৃত কী ঘটনা ঘটেছে তা উদঘাটন করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীরা ছাড় পাবে না।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফতউল্লাহ জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে বৃদ্ধার দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। মঙ্গলবার পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করে বৃদ্ধাকে তার ঘর বুঝিয়ে দিয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী বলেন, মূলত দখলের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সুফিয়া বেগমের একটি ঘর আমাদের যুবলীগের এক কর্মী ভাড়া নিয়েছিল চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দলীয় কার্যালয় করতে চেয়েছিল সে। কিন্তু বৃদ্ধার আপত্তির কারণে এবং আমাদের নেতা শামীম ওসমানের নির্দেশে ওই দোকান ঘরে কোনও দলীয় কার্যালয় হবে না।

আরও পড়ুন- 

‘আইএস থাকলে আপনাদের ওখানে আছে’
হঠাৎ বাতিল জামায়াতের ইফতার

/বিটি/এফএস/