বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, আটক তিন শিশুর নাম রাকিব (১২), সোহেল (১৩) ও আকাশ (১২)। তারা জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের শ্রমিক। তারা সাগর বর্মণের সঙ্গেই কাজ করতো।
পুলিশ সুপার জানান, বুধবার রাতেই এ তিন শিশুকে কারখানার ভেতর থেকে আটক করা হয়। পরে ওই তিন শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের যে আইন রয়েছে সেটা মেনেই তিন শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সাগর বর্মণের সঙ্গে আটক তিন শিশু কাজ করতো। গত ২৪ জুলাই দুপুরে কারখানার ভেতরে খেলার ছলেই হঠাৎ করে তিন শিশু মিলে সাগরের মুখে ও পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের বাতাস ঢুকিয়ে ফেলে। ওই ঘটনায় ৯ বছরের আরেকটি শিশুকে আটক করা হয়েছে যে পুরো ঘটনার সাক্ষী। তবে তদন্ত ও নানা কারণে ওই সাক্ষীর নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এসপি আরও জানান, এটা কী নিছক খেলার ছলের ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কারখানায় শিশু শ্রমের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
শিশু আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে আটক তিন শিশুকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়নি। শিশু আইনেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেফতার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দুইজনের মধ্যে আজাহার ইমাম ওরফে সোহেল (৩৮) জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের সিনিয়র উৎপাদক কর্মকর্তা। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া সোহাগ হোসেন হৃদয় (৩৫) লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোহেলকে সোমবার রাতে র্যাব-১১ ও হৃদয়কে মঙ্গলবার সকালে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই কারখানার ভেতরে ১০ বছরের শিশু সাগর বর্মণের পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা রতন বর্মণ বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। সোমবার পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি নাজমুল হুদাকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া সাগর বর্মণ হত্যার ঘটনায় কারখানার চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম ভূইয়া ও এমডি লায়ন মীর আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের পরিদর্শক সামিউল আলম কুরশী বাদী হয়ে শ্রম আদালতে মামলাটি করেন। এতে শ্রম আইন লঙ্ঘন, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণেরও আবেদন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গাজীপুর বারে হামলা মামলা: ৬ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ২
নিহত জঙ্গিরা বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক
বিএনপির সঙ্গে জঙ্গিদের গোপন যোগসূত্র আছে কিনা দেখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
/বিটি/