মানিকগঞ্জে বন্যা দুর্গতদের কিস্তি আদায়ে তৎপর এনজিওগুলো

Manikganj-NGO-PC-1

মানিকগঞ্জের ছয়টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে সয়লাব হয়ে আছে। এসব এলাকায় কর্মরত এনজিওগুলো দুর্গত মানুষদের সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ে ব্যস্ত। এনজিও কর্মীরা কোথাও কোমর পানি ভেঙে  এবং কোথাও নৌকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করছে।

এনিয়ে বেশ কয়েকটি এনজিও কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, হেড অফিস থেকে কিস্তি আদায় বন্ধের কোনও নির্দেশ না থাকায়, তারা কিস্তির টাকা আদায় করছেন। তাদের দাবি, কোনও সদস্য কিস্তির টাকা দিতে না পারলে তার কাছ থেকে জোর করে নেওয়া হচ্ছে না।

শিবালয় উপজেলার সাহিলী গ্রামের ফারুকের স্ত্রী সাবিনা স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন।  ওই ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি ১৫৫০ টাকা।  সাবিনার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। ওই গ্রামের জবেদ আলীর স্ত্রী  রুমা বেগম, রজ্জব মিয়ার স্ত্রী সাহানাজ বেগম, আব্দুল মান্নানের স্ত্রী রিমা বেগমসহ অন্য সদস্যদেরও কিস্তির টাকা বাধ্যতামূলক পরিশোধ করতে হয়েছে।

এই চিত্র জেলার বন্যাকবলিত অধিকাংশ এলাকার। বন্যার পানি ভেঙে ঋণ গ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করা হচ্ছে। শিবালয় উপজেলার সাহিলী গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগম জানান, স্থানীয় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও থেকে ২৯ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তাকে সাপ্তাহিক কিস্তির দিতে হয় ৭৫০ টাকা। অনেক কষ্ট করে বন্যার মধ্যেও তিনি কিস্তির টাকা দিয়েছেন।

গ্রামীণ ব্যাংক শিবালয়ের এরিয়া ম্যনেজার সানা রঞ্জন দাসের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, তার এরিয়া অফিসের অধীনে প্রায় ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। যারা কিস্তির টাকা দিতে পারছেন না তাদের কাছ থেকে জোর করে নেওয়া হচ্ছে না।

গ্রামীণ ব্যাংকের মানিকগঞ্জ জোনাল ম্যানেজার আব্দুল মতিন মজুমদার  বলেন,‘এরই মধ্যে দৌলতপুর, হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলার বেশ কয়েকটি বন্যাকবলিত অফিসে কিস্তির টাকা নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কেউ যদি কিস্তির টাকা দেন তা হলে তাদের কর্মীরা টাকা নিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক কখনও রিলিফ প্রোগ্রাম করে না। তারা কিস্তি দেয় আর সুদসহ টাকা ফেরত নেন।’

অপর দিকে দেশের বৃহত্তম এনজিও আশা’র মানিকগঞ্জ জেলা ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান, এই এনজিওটির প্রায় ৪৬ হাজার সদস্য রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনও চিঠি না আসায় ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে পারছেন না।

তিনি জানান, তাদের কর্মীরা সদস্যদের খোঁজ খবর নিতে এলাকায় যাচ্ছেন। তবে যেসব সদস্য স্বেচ্ছায় দিচ্ছেন কেবল তাদেরই কিস্তি নিচ্ছেন।কিস্তি প্রদানে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে না বলে তিনিও দাবি করেন। তাদের বন্যা কবলিত সদস্যদের সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও সাহায্য দিতে পারেননি বলে জানান।

মহাদেরপুরে অবস্থিত জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান কিস্তি আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

কথা হয়, গণকল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি এনজিওর মানিকগঞ্জের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের সাথে। তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলাকে সরকারিভাবে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত  ঋণের কিস্তি আদায় অব্যাহত থাকবে।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন : জঙ্গি নজরুলের জানাজায় অংশ নেয়নি গ্রামবাসী