টাঙ্গাইলে দুই জঙ্গির লাশ নিতে ২৪ ঘণ্টায়ও কেউ আসেনি

টাঙ্গাইলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয় যে বাড়িতে

ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও র‌্যাবের অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন দুই জঙ্গির লাশ নেওয়ার জন্য কেউ আসেনি। র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বাংলা ট্রিবিউনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘নিহতদের ময়না তদন্ত শেষ হয়েছে। লাশ নেওয়ার জন্য এখোনো কেউ যোগাযোগ করেনি। নিহত জঙ্গিদের পরিচয় জাচাই বাছাই করে মামলা দায়ের করা হবে।’

এর আগে শনিবার সকালে র‌্যাবের জঙ্গি বিরোধী অভিযানে আতিকুর রহমান (২০) ও সাগর হোসেন (২৫) নিহত হয়।

ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থল টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা মির্জামাঠ এলাকায় বসবাসকারীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এলাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা তারা আশা করেননি।

নিহতরা ব্যাচেলর হওয়ায় এবং মাত্র অল্প কয়েকদিন আগে বাসায় ওঠায় তাদের সঙ্গে কারো পরিচয় হয়নি বলে জানান এলাকাবাসী।

প্রতিবেশি লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ভয়ে খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাসার পাশেই এত বড় একটা ঘটনা। ব্যাচেলর এবং অল্প কয়েকদিন বাসায় ওঠায় নিহতদের সঙ্গে এখনো এলাকার কারও পরিচয় হয়ে ওঠেনি।’

এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সবাই শান্তিপ্রিয় মানুষ। ছোট খাটো কোনও ঘটনা ঘটলে স্থানীয় ব্যক্তিরাই তার সমাধান করেছেন। কিন্তু এবার বাইরে থেকে জঙ্গি এসে এলাকায় যে ঘটনা ঘটালো এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলো। এব্যাপারে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’

ওই বাড়ির দোতলার ভাড়াটে বিদ্যুৎ বলেন, ‘এই জঙ্গিদের সাথীরা এ বাড়িতে আক্রমণ করবে কিনা এ নিয়ে মনের ভেতর ভয় বিরাজ করছে।’

ঘটনার পর বাড়ির মালিক আজহার আলী মাস্টারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই ছেড়ে দেয়।

আজহার আলী মাস্টার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টাঙ্গাইলে থেকে পড়া শোনা করবে বলে ছাত্র পরিচয়ে আমার কাছে বাসা ভাড়া নেয়। তাদের কাছে পরিচয় পত্র চাইলে সাতদিনের সময় নেয়। তার পরপর আমি তাবলীগে চলে যাই। ঘটনার দিন জানতে পারি তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আর বিষয়টি জানার জন্য আমাকে থানায় নিয়ে বিস্তারিত জেনে রাতে ছেড়ে দেয়।

এদিকে সন্দেহভাজন নিহত দুই জঙ্গির মরদেহ টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনও মামলা হয়নি।

নিহতদের ডিএনএ টেস্ট করার জন্য নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে বলে বিকাল ৪ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় জানান কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী।

সেপ্টম্বর মাসের ২৮ তারিখে ছাত্র পরিচয়ে আজহার আলী মাস্টারের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় বসবাস শুরু করে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান এবং একই উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের জুনায়েদ হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন। শনিবার সাকালে র‌্যাবের অভিযানে তারা নিহত হয়।

/এইচকে/

পড়ুন: টাঙ্গাইলে নিহত ২ জঙ্গির পরিচয় মিলেছে