আইন হলো ইঁদুর মারার কলের মতো: রাষ্ট্রপতি

টাঙ্গাইলে রাষ্ট্রপতিরাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন,  ‘আইন হলো ইঁদুর মারার কলের মতো। এর শরণাপন্ন হওয়া খুবই সহজ, কিন্তু এর থেকে বের হওয়া তত সহজ নয়। আইনের বেড়াজালের কথা ভেবে অনেকেই আইনের আশ্রয় নিতে ভয় পায়। তাই ধনী-গরীব নির্বিশেষে দেশের নাগরিকরা যাতে আইনের সমান অধিকার পেতে পারে সে লক্ষ্যে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’

রবিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।টাঙ্গাইলে রাষ্ট্রপতি

এসময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বল্প গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা। মানুষের জন্য আইন। আইনের জন্য মানুষ নয়। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপনাদের অব্যাহত প্রয়াস চালাতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। অস্বচ্ছল ও সহায় সম্বলহীন মানুষের জন্য আইনী সহায়তায় বর্তমান সরকার আইনগত সহায়তা আইন ২০১৬ পাশ করেছে। এই আইনের আওতায় প্রতিদিন শত শত দারিদ্র মানুষ আইনের সেবা নিচ্ছে।’টাঙ্গাইলে রাষ্ট্রপতি

এসময় আইনজীবীদের অনুরোধ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অসহায় বিচার প্রার্থীর মামলা বিনা পারিশ্রমিকে নিষ্পত্তি করবেন। দেখবেন এর ফলে সমাজের চেহারা পাল্টে যাবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতি একটি প্রাচীন সংগঠন। স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে এই সমিতি দেশের জনগণের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।টাঙ্গাইলে রাষ্ট্রপতি

অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মো. মুলতান উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলির সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম। এসময় টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্যরা, জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে রাষ্ট্রপতি টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেন।

আরও পড়ুন- 



হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দখলে শেখ ফজিলাতুন্নেছা চক্ষু হাসপাতাল!

/এফএস/