নিখোঁজের ৮দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

নিহত স্কুলছাত্র আতিকুর রহমান

নিখোঁজের আট দিন পর শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সেপটিক ট্যাংক থেকে এক স্কুলছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম আতিকুর রহমানের (১৪)। সে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিপ্রবর্থা এলাকার আব্দুল রশীদের ছেলে।

জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এআই) রাজিব শেখ জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউলতিয়ার কারখানা বাজারের দক্ষিণ পাশে সিরাজুল ইসলামের বাংলো বাড়ির গৃহকর্মী শুক্রবার সকালে বাড়ি পরিচ্ছন্নে কাজ করার সময় তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি তিনি স্থানীয়দের জানালে তারা সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খুলে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয়রা মরদেহটি নিখোঁজ আতিকুরের বলে শনাক্ত করেন। 

তিনি আরও জানান, আতিকুর এবার কাউলতিয়া জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে দরিদ্র পরিবারের সন্তান ওই এলাকার ‘দেওয়ান ব্রিকস’ ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ নেয়। শুক্রবার রাতে আতিক ইটভাটায় কাজে গিয়ে আর ফেরেনি। এ ঘটনায় পুলিশ সোমবার ইট পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকের চালক আব্দুল আলিম, শ্রমিক শফিকুল ইসলাম ও খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, ওই তিনজন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ইলিয়াস রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা আদালতকে জানায়, ৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ঢাকায় ইট নামানোর সময় ইটের সঙ্গে আতিক মাটিতে পড়ে যায়। এরপর তারা আতিকের শরীরে হাত দিয়ে দেখে যে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। এরপর বিষয়টি ইটভাটার মালিক ইমরান দেওয়ানকে জানানো হয়। তিনি আতিকের লাশ বস্তায় ভরে ইটভাটায় নিয়ে যেতে বলেন। মালিকের কথামতো তারা আতিকের মরদেহ বস্তায় ভরে ট্রাকসহ ইটভাটায় নিয়ে যায়। পরে ইট ভাটার মালিক লাশ রেখে সেখান থেকে তাদের চলে যেতে বলেন। এরপর আতিকের মরদেহ কী করা হয়েছিল তা তারা জানেন না।

আটক তিনজনের তথ্য অনুযায়ী বুধবার ওই ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইটভাটার মালিক ইমরান ও ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ছেলের হদিস না পেয়ে আতিকের বাবা বুধবার রাতেই জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় দেওয়ান ব্রিকসের মালিক ইমরান দেওয়ান (৩৫),ট্রাক চালক আব্দুল আলিম (২৮), শফিকুল ইসলাম (২২), শাহিন (২৫) ও খোরশেদ আলমকে (২২) আসামি করা হয়। এরই মধ্যে শুক্রবার আতিকের লাশ উদ্ধা করা হয়।

 /এসটি/