ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় তিনটি হলো- সদরের ১নং মিজানপুর ইউনিয়নের চর জৌকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, সূর্যনগর দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয় ও দয়াল নগর মোজাহার আলী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সূর্যনগর দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম জানান, সূর্যনগর দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে ৯ শতাধিক। এমনিতেই বিদ্যালয়ের অবোকাঠামো ছিল দুর্বল। শ্রেণিকক্ষের সমস্যা ছিল বহুদিন ধরেই। তার ওপর ঝড়ে চার কক্ষ বিশিষ্ট টিনসেড ঘরটি ভেঙে পড়েছে। এখন অবস্থায় শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বিপদে পড়েছি। তবুও তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে লেখাপড়ার কথা ভেবে খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের অবোকাঠামো মেরামতের জন্য সংশ্লিস্ট সরকারি দফতরে আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরোও জানান, গ্রামাঞ্চলে হলেও বিদ্যালয়টিতে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে থাকে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি ঠিক করা না হলে শিক্ষাদান ব্যাহত হবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের জীবনে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি পুণরায় নির্মাণে সহযোগিতা চেয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
চর জৌকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল মতিল মোল্লা জানায়,গত কয়েকদিন ধরে ( ৩ থেকে ৬ এপ্রিল) আমরা খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করছি। প্রচন্ড রোদে আমাদের ক্লাস করতে কষ্ট হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন ঝড়ে বিদ্যালয়ে ভেঙে যাওয়া ঘড়গুলো অতি দ্রুত মেরামত করার।
অপরদিকে, দয়াল নগর মোজাহার আলী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রিমা খাতুন জানান, গত সোমবারের ঝড়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনের ঘরটি ভেঙে পড়েছে। তাই কয়েক দিন ধরে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ১৫৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়ার কারণে অনেকে শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে আসছে না। আবার যারা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আসছে তাদেরও ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে। নিজস্ব কোনও অর্থ না থাকায় কবে নাগাদ বিদ্যালয়টির মেরামত করা সম্ভব হবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছি। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নূরমহল আশরাফী জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় তিনটি পুণরায় নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যালয় তিনটির সার্বিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
/এআর/