এ ঘটনার জেরে দফায় দফায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে বিকালের দিকে শিক্ষার্থীরা আশুলিয়া কলমা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ লাঠি চার্য করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত শিক্ষার্থী সিফাত সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। এছাড়া গুলিবিদ্ধদের মধ্যে বাসুদেব নামের এক শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আলমাস হোসেনসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, রবিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ক্যাম্পাসে বড় ভাইদের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সায়েদ ও বাপ্পীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ওই সময় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। এদিকে সোমবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে ক্যাম্পাসের সামনে একটি হোটেলে ওই ঘটনায় ফের মীমাংসা করার জন্য প্রস্তুতি নেয় তারা। এ সময় বাপ্পীর পক্ষে আশুলিয়ার সদর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা শাওন ২০টি মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৪০ /৪৫ জন লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে তারা সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিতভাবে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় সিটি ইউনিভার্সিটির ৭ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে তাদেরকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে টেক্সটাইল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র সিফাত হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এদিকে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির অনান্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এ সময় তারা ছাত্রলীগের দুই কর্মী ও দুটি মোটর সাইকেল আটক করে।
অন্যদিকে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেয়। পরে তারা সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা খাগান বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান-পাট ভাঙচুর করে। এছাড়াও আটকে রাখা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা চারাবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে আরও বেশ কয়েকটি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে তারা আশুলিয়া-কলমা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও র্যা ব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু পুলিশ তাতে ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্য ও ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হওয়া দুইজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. নাজিম হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ অপর দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের (ওসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বহিরাগতদের মধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। যেকোনও অপ্রিতীকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
/এআর/