জেলা শিশু একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু একাডেমিতে শিশু বিকাশ ও প্রাক প্রাথমিক বিভাগে ৩০ জন করে ৬০ জন এবং চিত্রাংকন, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও প্রায় ২৫০ জনসহ মোট ৩ শতাধিক। তিন কক্ষ বিশিষ্ট এ ভবনের বিভিন্নস্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে প্রতিদিন। বৃষ্টির দিনে টিনের চালের ফুটো দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে। প্রতিটি কক্ষেই উইপোকা বাসা বেঁধেছে। টিনের চালের নিচে কোনও সিলিং নেই। একটি টয়লেট আছে, যা ব্যবহারের অনুপোযোগী। দরজা, জানালা ভাঙা ও অপরিচ্ছন্ন। এছাড়া অভিভাবকদের বসার জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। ভবনের সামনের মাঠেই তাদের বসতে হয়। বর্ষায় এখানে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
শেরপুর জেলা শিশু একাডেমির ভারপ্রাপ্ত শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আসলাম খান জানান, বর্তমান এই জরাজীর্ণ ভবনটিতে বেশ ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এ ভবনের জমিটি সরকারি খাস হলেও এটি শিশু একাডেমির নামে বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দফতরে চিঠি চালাচালি চলছে। জমি বরাদ্দ হলেই কেন্দ্রীয় শিশু একাডেমিতে ভবন নির্মাণের জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শিশু একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শেরপুর জেলা শাখা ১৯৯৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনও ভবন না থাকায় ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় চলে এর কার্যক্রম। সর্বশেষ ২০০৯ সালে শহরের ৫নং ওয়ার্ডের খরমপুর মহল্লায় শত বছরের পুরনো ফৌজদারি আদালতের জীর্ণভবনে অস্থায়ী এ শিশু একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. নাসিরুজ্জামান।
/এনআই/এআর/