সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে শরীয়তপুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন স্থানীয় দৈনিক হুংকার পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার সৈকত দত্ত (২৫) ও স্টাফ রিপোর্টার ইয়াকুব বেপারি (৩২)। রবিবার শিক্ষিকা আরিফা আক্তার মিমি বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় মামলাটি করেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাশাভোগ গ্রামের আরিফা আক্তার মিমির বাবা আলী হোসেন সিকদার ১৯৯৭ সালে এক অগ্নিকাণ্ডে মারা যান। তখন মিমির বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। এরপর থেকে মিমির মা পারুল বেগম অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি তাকে ও তার ছোট বোনকে পড়ালেখা করান।
মিমি ২০১৪ সালে এতিম কোটায় সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে হোগলা মাকসাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। গত জুলাই মাস থেকে স্থানীয় দুই সাংবাদিক কাশাভোগ গ্রামের কৃষ্ণ দত্তের ছেলে সৈকত দত্ত ও স্বর্ণঘোষ গ্রামের আয়নাল বেপারির ছেলে ইয়াকুব বেপারি শিক্ষিকা মিমির এতিম কোটাকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করে চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মিমি ১৩ আগস্ট পুলিশ সুপার বরাবর একটি আবেদন করেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় যায়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই এনামুল হক খান গত ২০ আগস্ট লিখিত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগকারিকে আদালত বা থানায় গিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার আরিফা আক্তার মিমি বাদী হয়ে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন।
মামলার বাদী আরিফা আক্তার মিমি বলেন, ‘আমার এতিম সনদে সমস্যা আছে দাবি করে গত জুলাই মাসে দুই সাংবাদিক নিউজ করার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা চায়। এ নিয়ে একাধিক বার সরাসরি ও মোবাইলে তাদের সঙ্গে কথা হয়। টাকা দিতে না পারায় তারা কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় নিউজও করে। আমার কাছে চাঁদা দাবির অডিও ও ভিডিও রেকর্ড রয়েছে। তাদের অব্যহত হয়রানির কারণে বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।’
অভিযুক্ত দৈনিক হুংকার পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার সৈকত দত্ত বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় মুরব্বীরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। এর দুই দিন পর কেন আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করলো বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় দৈনিক হুংকার পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সৈকত দত্ত ও ইয়াকুব বেপারি কোনো প্রকার নিয়োগ ছাড়াই এখানে কাজ করতেন। সম্পাদক বিদেশে রয়েছেন। তিনি দেশে আসলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
পালং মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বাদীর করা চাঁদাবাজির মামলা নেওয়া হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।’
আরও পড়তে পারেন: সালমার অবস্থা উন্নতির দিকে: দালালসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা