পারিশ্রমিক কম, নতুন কারিগর আসছে না প্রতিমা তৈরিতে

আড়াইহাজার দুর্গা মন্দির (ছবি প্রতিনিধি)দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। একেকজন কারিগরকে ডজনের বেশি প্রতিমা তৈরি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন তারা ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন। এদিকে, পারিশ্রমিক কম হওয়ায় নতুনরা এ পেশায় আসছে না।

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর (ছবি প্রতিনিধি)নগরীরর শ্রী শ্রী বালাজিউর আখড়া মন্দিরে আমলা পাড়া পূজা মণ্ডপের  জন্য প্রতিমা তৈরি করছেন কারিগর মলয় ভৌমিক ও ধীরেন চন্দ্র পাল। কারিগর মলয় ভৌমিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেশে প্রতি বছর পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বাড়ছে না প্রতিমা তৈরির কারিগরের সংখ্যা। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পূজা আসলে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয় কারিগরদের। কিন্তু সেই তুলনায় পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। বড় বড় বাজেটের দুই একটি মণ্ডপ ছাড়া বেশির ভাগ জায়গায় পূজা মণ্ডপ তৈরিতে বেশি টাকা খরচ করা হয় না। ছোট মন্দির বা গ্রামে প্রতিমা কারিগররা তেমন পারিশ্রমিক পান না। যে কারণে নতুন কেউ এ পেশায় আসতে চায় না। পুরাতন যারা আছে তারা বাধ্য হয়েই জীবিকার তাগিদে এই পেশা ধরে রেখেছে। তাছাড়া দুর্গা পূজা ছাড়া বছরের বাকি সময় তাদের বেকার জীবন কাটাতে হয়। এ কারণে এই শিল্পের সঙ্গে নতুন কারিগর যোগ হচ্ছে না।’

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর (ছবি প্রতিনিধি)প্রতিমা তৈরির আরেক কারিগর ধীরেন চন্দ্র পাল জানান, এবার উল্টো রথ যাত্রা থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এ বছর প্রায় এক ডজন প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যে কেউ তো আর প্রতিমা বানাতে পারে না। এটি একটি শিল্পকর্ম। কিন্তু এই শিল্পকর্ম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে যে পরিশ্রম হয় সে তুলনায় পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। কিন্তু আমরা এই শিল্পকর্ম ছাড়া অন্য কিছু শিখিনি। ফলে বছরের পর বছর খেয়ে না খেয়ে এই পেশায় জড়িয়ে আছি। কিন্তু আমাদের আগামী প্রজন্ম আর এই পেশায় আসছে না। দুই একজন আসলেও বেশি দিন থাকছে না। কারণ বছরের বেশির ভাগ সময় কাজ থাকে না।’  

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর (ছবি প্রতিনিধি)এদিকে, নারায়ণগঞ্জে এবার ১৯৫টি মণ্ডপে পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হবে।  নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শংকর সাহা জানান, নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির মেলবন্ধন অন্যান্য জেলা থেকে অনেক বেশি। যে কারণে এখানকার পূজা বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়।পূজা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয় সেজন্য মুসলমান বন্ধুরা সহযোগিতা করে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, পূজা শুরুর পর প্রতিটি মণ্ডপে পোশাকধারি পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া কোনও মণ্ডপে সন্দেহভাজন কেউ ঘোরাফেরা ও অপরিচিত কাউকে দেখলে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
পূজার আনন্দ আমার পরিবারে নাই: রসরাজ দাস