শনিবার (২৫) রাতে পিৎজা সরবরাহের সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন বাঁধন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাটলার কমিউনিটি কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অ্যাসোসিয়েট শেষ করেছেন। ডিসেম্বরে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল তার। হাসান পড়ালেখার পাশাপাশি পিৎজা ডেলিভারির কাজ করতেন।
মা হাসনা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়। বাঁধন আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল।অনেক জায়গায় ঘুরিয়ে দেখাবেও বলেছিল। আরও বলেছিল, কয়েকদিন পরই আমার জন্য ৬০০ ডলার পাঠাবে। এরপর আমার স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে বলে। আজ সবই স্মৃতি হয়ে গেল।’
ছেলের ছোটবেলার বন্ধু নাঈমের কাছ থেকে বাঁধনের মৃত্যুর খবর পান বলে জানান তিনি।
বাবা মজিবুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাঁধন বিমান বানানোর প্রতি আগ্রহী ছিল। ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যায় সে। কানসাসের উইচিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারফোর্সে যোগদানের উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়। অক্টোবরে সেখানে তার যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে চাকরিতে যোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১১ সালের জুনে বাঁধন যুক্তরাষ্ট্রে যায়। এরপর আর দেশে আসেনি। সন্তান সুশিক্ষিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে এমনটাই চাওয়া ছিল আমার। আজ সেই চাওয়া শেষ হয়ে গেল।বৃহস্পতিবার বাঁধনের সঙ্গে শেষ কথা হয়।টাকা-পয়সা লাগবে কিনা, শরীরের কী অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে কথা হয়।বাঁধনের কোনও শত্রু ছিল না। এমন কথা সে কখনও আমাকে বলেনি। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা থাকারও কথা নয়।’
বাঁধনের একমাত্র বোন ভাবনা বলেন, ‘ভাইয়া আমাকে অনেক আদর করতো। কখন কী লাগবে সবসময় জিজ্ঞেস করতো।’
প্রতিবেশী আবুল হাশেম বলেন, বাঁধন শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের ছিল। সবাইকে শ্রদ্ধা করতো। তার এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই ব্যথিত।