বিনাখরচে প্রশিক্ষণ শেষে দেশ-বিদেশে চাকরি





জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৭ সেশনের কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ বিনাখরচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (টিটিটিআই)। এছাড়া বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির ব্যবস্থাও করা হয়। সামরিক ও বেসামরিক নারী-পুরুষরা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। গাজীপুরে এই প্রতিষ্ঠানটিতে গত কয়েক বছরে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই এখন কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় চাকরি করছেন। এবারও কাতারে জনশক্তি রফতানির প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কল্যাণ ও পুনর্বাসন পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী এসব কথা জানান।


সোমবার (০১ জানুয়ারি) সকালে জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৭ সেশনের কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিটিটিআইয়ের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) আছয়াদুর রহমান খাঁন। এসময়প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল মেজর (অব.) শ্যামলেন্দু কবিরাজ, ইনস্ট্রাকটর, কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন ।

অধ্যক্ষ আছয়াদুর রহমান জানান, ২০০৯ সালের ১ জুন টিটিটিআই যাত্রা শুরু করে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রেড কোর্সে প্রায় ৭ হাজার নর-নারীকে (সামরিক ও বেসামরিক) বিনা টিউশন ফিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের দেশ-বিদেশে চাকরির সংস্থানও করে দেওয়া হয়েছে।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, বর্তমান সেশনে (১ জুলাই- ৩১ ডিসেম্বর) ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী ৮টি বিভিন্ন ট্রেড কোর্স শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ২৪৬ জন সামরিক, ৫০ জন বিজিবি, এবং ৬৬৯ জন বেসামরিক ছাত্র-ছাত্রী ছিল। এ সেশনে একজন মহিলাসহ ১৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থী সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া ৫৩ জন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন এবং আরও ৩০০ জনের চাকরি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধ্যক্ষ আছয়াদুর রহমান বলেন, টিটিটিআই অর্থ নয় বরং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মক্ষেত্রে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের প্রশিক্ষণ ছাড়াও ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৭৫০ জনকে বিনাখরচে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বর্তমান সেসনে আরও ২শ’ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এদের প্রতিজনকে মাসে ৩ হাজার ১২০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে এবং সফল প্রশিক্ষণ শেষে সবার চাকরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।