গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাওভাঙ্গা (তিতাস গ্যাস অফিসের পাশে) ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে বাস চাপায় এক শ্রমিক আহতের ঘটনায় কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় ফ্লামিঙ্গো ফ্যাশন্স লিমিটেডের এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর গুজবে উত্তেজিত শ্রমিকরা এ ঘটনা ঘটায়।
এসময় সহকর্মীরা ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কারখানার সুইং অপারেটর আশরাফুল ইসলাম জানান,সকাল পৌণে ৮টার দিকে কারখানার সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় শিমুলতলী থেকে কালিয়াকৈরগামী কেপি পরিবহনের একটি বাস সুমি (২০) নামের এক শ্রমিককে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সুমি গুরুতর আহত হয়। সুমি কারখানার ফিনিশিং সেকশনের প্যাকিংম্যান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুরে সুমি নিহত হওয়ার খবর কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীরা দুপুরের খাবারের পর রাস্তায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে।
জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শিমুলতলী সড়কে অবস্থান নিয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে এবং একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ সদস্য ও ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান। এসময় ওই সড়কে গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মেজবাহ উদ্দিন মুরাদ জানান, ‘বাস চাপায় সুমি আহত হয়েছেন, মারা যায়নি। তাকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে কে বা কারা সুমির মৃত্যু খবর কারখানায় ছড়িয়ে দিল। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বাসে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বুধবারের জন্য কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে।