কৃষকরা জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করলে গড়ে খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। হলুদ ফাঁদে খরচ হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এতে কমছে বাড়তি খরচ, পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। বাজারে বিষমুক্ত এসব সবজির চাহিদা থাকায় পাওয়া যাচ্ছে অতিরিক্ত দামও। লাভজনক হওয়ায় এ পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।
আলোকবালী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘এই মৌসুমে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চলের আলোকবালীতে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করে ১০ একর জমিতে উস্তা চাষ করা হয়েছে। এতে সফলতা পাওয়ায় হলুদ ফাঁদ ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন অন্য কৃষকরাও।’
একই এলাকার অপর কৃষক উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘হলুদ ফাঁদটি সাশ্রয়ী ও সহজ পদ্ধতি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এটি ব্যবহার করে পোকা দমন করতে পেরেছি। কার্যকরি হওয়ায় সব ধরনের সবজিতে এই ফাঁদ ব্যবহার করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সদর উপজেলার শীলমান্দি গ্রামের কৃষক সিরাজ মিয়া বলেন, ‘হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করে শিম ক্ষেতের পোকা দমন করতে পারছি। এতে কীটনাশক খরচ কমার পাশাপাশি বিষমুক্ত শিমের ন্যায্য দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছি।’
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. লতাফত হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ বছর জেলার ১ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদ ফাঁদের ব্যবহার করা হয়েছে। সফলতা পাওয়ায় বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের মধ্যে হলুদ ফাঁদের ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছে কৃষি বিভাগ।’
আরও পড়তে পারেন: বন্ধুর পরামর্শে মৌ চাষ, স্বাবলম্বী জানারুল