ড্রেনের ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন চুনকুটিয়াবাসী

ময়লা পানিতে তলিয়ে আছে রাস্তাবুড়িগঙ্গা নদী পার হলেই কেরানীগঞ্জ। রাজধানী এত কাছে হওয়ার পরও এ এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। শুধু রাস্তাঘাটই নয়, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নাজুক। এমনই একটি এলাকা কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া। এখানকার কালিবাড়ি-মুসলিমনগর সড়ক তলিয়ে আছে স্যুয়ারেজ ও ড্রেনের ময়লা পানিতে। সেই পানি মাড়িয়েই এলাকাবাসীদের চলাচল করতে হয়। এতে করে  অনেকেই বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া মশার উপদ্রব তো আছেই। অনেকেই মশাবাহিত নানা রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় ময়লা পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকার দোকান-পাটও বন্ধ হয়ে গেছে। ১ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বছর ধরে রাস্তার এ অবস্থা। কালিবাড়ি এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বাস। এখানে রয়েছে তিনটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল, দু’টি মাদ্রাসা, তিনটি মসজিদ ও একটি মন্দির। এই এলাকায় চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। এক বছর ধরে স্যুয়ারেজ লাইন নষ্ট হয়ে ময়লা পানিতে তলিয়ে আছে সড়ক। ময়লা ও দুর্গন্ধময় পানি পাড়িয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে মুসল্লিদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মন্দিরে যেতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের। ময়লা পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করায় শিক্ষার্থীরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

শুভাঢ্য ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শহিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে চুনকুটিয়া কালিবাড়ি- মুসলিমনগর সড়কের নিচ দিয়ে একটি স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণ করা হয়। চুনকুটিয়া খালটি দখল করে বেশ কিছুদিন হলো ভূমিদস্যুরা বালি ভরাট করে ফেলেছে। ফলে স্যুয়ারেজের পানি ও ময়লা নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

কালিবাড়ির বাসিন্দা আবু সাইদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি। চুনকুটিয়া খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ড্রেন ও স্যুায়ারেজ লাইনের পানি, ময়লা  নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ  হওয়ায় সড়কে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি  জমে  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কেরানীগঞ্জ উপজেলার মূল প্রকৌশলী শাহজাহান আলী বলেন, ‘৫/৬ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে এই স্যুয়ারেজ লাইনটি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই স্যুয়ারেজ লাইনে ময়লা-আবর্জনা জমে রোডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।’