মানববন্ধন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা অভিযোগ করেন, রূপগঞ্জের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী হাইব্রিড ও বিএনপি জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিধনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার ইশারায় উপজেলা সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ১৫শ’ নেতাকর্মী দেড় শতাধিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছে। যুবলীগ কর্মী সুমন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের ১৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ সুমন মারা গেছে পুলিশের গুলিতে। এমপির নির্দেশে হয়রানি করার জন্যই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আবুল বাশার টুকু, চেয়াম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, আবু হোসেন ভূইয়া রানু, জেলা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, আব্দুল আউয়াল, ইয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা হাফিজুর রহমান ভূইয়া সজিব, যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান ভূইয়া, লুৎফর রহমান মুন্না, আনোয়ার হোসেন তামিম, রাজেশ কর রুপম ও সৈয়দ হোসেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনের সংসদ্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক জানান, যুবলীগ কর্মী সুমন মিয়াকে হত্যা করে তারা ভুল করেছে। মামলার বাদী যদি কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করে আমি তো আর না করতে পারি না। আইন আইনের গতিতে চলবে। তারা যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, বিচার হবে। এখানে আমার কোন হাত নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটি অংশ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নাশকতা কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ অবস্থান নেয়। পরে তাদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় সুমনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত সুমনের শাশুড়ি কাজল রেখা বাদী হয়ে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে রুপগঞ্জ থানায় মামালা করেন।