গাজীপুরে গার্মেন্টসকর্মী খুন: ৩ বছর পর স্বামী গ্রেফতার

গাজীপুরগাজীপুরে গার্মেন্টসকর্মী শাহিনুর আক্তার শারমিনকে (১৮) হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার তিন বছর পর স্বামী মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করেছে জয়দেবপুর থানার পুলিশ। রবিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইসমাইল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কালাকন্ত এলাকার মস্তুর হোসেনের ছেলে। নিহত শারমিন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারি থানার ডাংগুয়াপাড়া গ্রামের আবু বকর ছিদ্দিকের মেয়ে।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ইসমাইল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি জরুন এলাকায় মণ্ডল গ্রুপের আয়রনম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। একই কারখানায় হেলপার হিসেবে চাকরি করতেন শারমিন। একই কারখানায় চাকরির সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তারা বেশ কিছু দিন আলাদা থাকতেন। একপর্যায়ে শারমিন বিয়ের বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানানোর জন্য ইসমাইলকে চাপ দেয়। এদিকে ইসমাইল পারিবারিক কারণে বিয়ের বিষয়টি তার পরিবারে জানাচ্ছিলেন না। পরে ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ তারা গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকার শিরিরচালা আজমত আলীর বাড়িতে বাসা ভাড়া নেয় তারা। ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে সে স্ত্রী শারমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় হোতাপাড়া পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ের নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে ১৮ মার্চ খবর পেয়ে শারমিনের স্বজনরা হাসপাতালের মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নিহতের চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর ইসমাইল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাটুভাঙ্গা এলাকায় পালিয়ে গিয়ে সেখানে সাউথ টেক্সটাইল মিলে আয়রনম্যান হিসেবে চাকরি নেয় এবং দুই বছর আগে সে আরেকটি বিয়ে করে।

ওসি আরও জানান, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল এ মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে মনিটরিং সেলে স্থানান্তরিত হয়। চার জন তদন্তকারী কর্মকর্তা এ মামলার তদন্ত করেন। সর্বশেষ জয়দেবপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. শওকত আলী এক বছর ধরে মামলাটির তদন্তকালে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও ফাঁদ পেতে আসামি ইসমাইলকে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে।